Friday, February 3, 2023
Homeলাইফস্টাইলগ্যাস কম পুড়িয়ে কীভাবে রান্না করবেন র‌ইলো ১১ টি টিপস

গ্যাস কম পুড়িয়ে কীভাবে রান্না করবেন র‌ইলো ১১ টি টিপস

আমাদের প্রতিদিনকার জীবনে সংসার যাপনের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো গ্যাস। কারণ আজকালকার দিনে কেউ আর উনুনে রান্না করেন না। এদিকে দিনকে দিন গ্যাসের দাম বেড়েই চলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এই কারণে মধ্যবিত্তদের মাথায় হাত পড়েছে। তারা বুঝতেই পারছি না কীভাবে রান্না করবেন? গ্যাসের দাম উত্তরোত্তর বেড়ে চললেও মানুষের মাইনে কিন্তু সেই ভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়েনি, তাই সংসার চালানোর জন্য মানুষ এখন ভাবছেন গ্যাস কম পুড়িয়ে কীভাবে রান্না করা যায়? কীভাবে সিলিন্ডার অনেক দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়? গ্যাস কেনা টা যেখানে দুষ্কর হয়ে পড়ছে মানুষের পক্ষে সেখানে বিকল্প উপায় তো ভাবতেই হবে। কীভাবে গ্যাস কম পুড়িয়ে রান্না করা যায় সেই সব বিষয় ভাবতে হবে। আজকে তাই আমি আপনাদের কাছে কয়েকটি ফান্ডা নিয়ে হাজির হয়েছি।

গ্যাসের দাম যেখানে উত্তরোত্তর বাড়ছে সেখানে আমাদের মাইনে বাড়ছে না তাই আমাদের অল্প মাইনের মধ্যে সংসার চালাতে গেলে কিছু না কিছু ট্রিক্স তো অবলম্বন করতেই হবে। কিছু সহজ পদ্ধতি আছে যেগুলো যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে গ্যাস কম পুড়িয়ে রান্না করা সম্ভব হবে এবং আপনার কিনা গ্যাস অনেকদিন চলবে।

১। আমরা অনেক সময় কড়াই বা কোন কিছু ধুয়েই ফ্রিজের মধ্যে চাপিয়ে দি‌ই। এই ভুলটি আর করা যাবে না। গ্যাসের উপর করায় বা কোন পাত্র চাপানোর আগে তার মধ্যে থাকা জল ভালো করে একটি শুকনো গামছা দিয়ে মুছে নিতে হবে। কারণ কড়াইয়ের মধ্যে লেগে থাকা ওই জল শুষে নেওয়ার জন্য অনেকটা গ্যাস খরচ হয়।

২। গ্যাসের উপর যখন কড়াই বা ফ্রাইং প্যান কিছু চাপাবেন, তখন সেটা প্রথম দিকে কিছুক্ষণ হাই ফ্লেমে রেখে দিয়ে গরম করে নিন, এরপর গ্যাসের ফ্লেম কমিয়ে দিন, কারণ একবার কড়াই বা পাত্রটি গরম হয়ে গেলে তারপর আর ততটা তাপের প্রয়োজন হয় না। তাই শুধু শুধু গ্যাস নষ্ট করার কোন মানেই হয় না।

৩। রান্না করবার আগে, যে যে জিনিসগুলি প্রয়োজন সেগুলি আপনার সামনে বার করে রেখে দেবেন। মশলা বাটা, তেল, নুন, ঝাল, মিষ্টি যা যা রান্নায় ব্যবহার করবেন সবটা বাইরে রেখে দেবেন কারণ অনেক সময় এমনটা হয়, রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজতে গিয়ে অনেকটা সময় চলে যায় ফলে গ্যাস পোড়ে, তাই আমাদের এমন ভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে রান্না করতে হবে যাতে গ্যাস কম পোড়ে।

৪। আজকালকার দিনে ফ্রিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। মানুষ তাদের বেচে যাওয়া খাবারগুলি ফ্রিজে রেখে দেন, কিন্তু ফ্রিজে খাবার রাখা মানেই তা অতিরিক্ত পরিমাণে শীতল হয়ে যায় তাই সেই খাবার খেতে গেলে তাকে আবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে হয়, তাই ফ্রিজ থেকে খাবার বার করে সেটিকে গরম করে তারপর সেটা খাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনি ফ্রিজ থেকে বার করেই খাবারটি গ্যাসে বসিয়ে দেবেন না, রান্না করার অন্তত একঘন্টা আগে ফ্রিজ থেকে খাবারটি বার করে বাইরে রাখুন। এতে খাবারটির শীতলতা আস্তে আস্তে কমে যাবে এরপর গ্যাসে চাপালে তা গরম হতে বেশি সময় লাগবে না আর আপনার গ্যাসও বেশি পুড়বে না।

৫। রান্না করবার সময় অনেক সময় আমরা আলুর টুকরো বড় বড় করে কাটি, এতে গ্যাস অনেক বেশি খরচ হয়। তাই যদি কম খরচে রান্না করতে চান তাহলে আলুর টুকরো ছোট ছোট করে কাটুন, এর ফলে আলু সিদ্ধ করা হোক বা কড়াইতে তেলে ভাজা সবটাই তাড়াতাড়ি হবে।

৬। এখন অনেকের ঘন ঘন চা কফি খাওয়ার নেশা আছে, এক্ষেত্রে যদি বারবার গ্যাসে চা, কফি করা হয় তাহলে গ্যাস অনেকটা পুড়বে এটাই স্বাভাবিক, এক্ষেত্রে আমাদের হাতে একটা অপশন আছে আমরা একটা ফ্লাক্স নিয়ে তার মধ্যে চা বা কফিটা একবারে করে রেখে দিতে পারি মনে হলে মাঝেমধ্যে সেই চা বা কফিটা খেতে পারি। এক্ষেত্রে একবারে করা চা বা কফি বাইরে রেখে গরম করলে যেমন গ্যাস পুড়বে, তেমনি অনেকেই হয়তো জানেন না চা কফি একবার করে দ্বিতীয়বার গরম করলে জিনিসটার সমস্ত গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। বারবার চা বা কফি গরম করে খাওয়াটা স্বাস্থ্যের জন্য‌ও ভালো নয়।

৭। রান্না করবার জন্য যেটুকু জলের প্রয়োজন সেটুকু তাক বুঝে দিতে হবে, প্রয়োজন হলে প্রথমে অল্প জল দিন তারপর আরেকটু জল দিন কিন্তু বেশি জল দেবেন না কারণ যতটা জল দেবেন সেই জল শুকানোর জন্য অনেকটা গ্যাস খরচ হবে।

৮। রান্না করবার ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন। কোন জিনিস যদি আপনি প্রেসারে সিটি মেরে তারপর করেন, তাহলে গ্যাস কম খরচ হয় আবার রান্না টিও তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।

৯। যে সকল পাত্র গুলি বসিয়ে রান্না করবেন সব সময় মাথায় রাখবেন সেই সমস্ত পাত্রের নিচের সারফেস টা যেন সমান হয়। কারণ এর ফলে তাড়াতাড়ি সেই পাত্রটি গরম হয়ে যাবে।

১০। রান্না করবার সময় সব সময় গ্যাসের পাইপ চেক করে তারপরে রান্না শুরু করবেন, কারণ গ্যাস পাইপ থেকে অনেক সময় গ্যাস বেরিয়ে যায়। এমনটা হলে গ্যাস যেমন খরচ হয় তেমনই গ্যাস বেরিয়ে অনেক বড়সড়ো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।

১১। সপ্তাহে রান্নার একটা চার্ট করতে পারেন। ধরুন সপ্তাহের দুদিন সিদ্ধ খাবার আর একটা ডাল খেলেন, বাকি পাঁচদিনের মধ্যে কোনদিন অল্প একটু ভাজাভুজি বা কোন তরকারি রান্না করলেন‌ আর বাকি ৩ দিনের মধ্যে হিসেব করে এমন ভাবে রান্না করতে হবে যাতে গ্যাস কম খরচ হয়। সপ্তাহের একদিন রাখুন বিরিয়ানি, পোলাও, মাটন ইত্যাদি রান্নার জন্য। এইভাবে যদি প্রপার একটি রান্নার চার্ট করে এগোতে পারেন তাহলে গ্যাস খরচের কথাটা মাথায় থাকবে আর রান্নার ক্ষেত্রে গ্যাসের খরচটা কম হবে।

উপরিউক্ত ১১ টি পদ্ধতি যদি আপনি মেনে চলেন তাহলে আপনার গ্যাস কম পুড়বে এবং বাজেটের মধ্যে আপনি রান্না করতে পারবেন।

RELATED ARTICLES

Most Popular