Friday, February 3, 2023
Homeলাইফস্টাইলনিজেকে সুন্দর করে তোলার ৮টি উপায়! ৮ নম্বর উপায়টি অবশ্যই প্রত্যেকটি নারী...

নিজেকে সুন্দর করে তোলার ৮টি উপায়! ৮ নম্বর উপায়টি অবশ্যই প্রত্যেকটি নারী ট্রাই করুন!

সুন্দর হতে কে না চায়? লাবণ্য ধরে রাখার জন্যই তো কত রকমের কসমেটিক্স ব্যবহার করেন মেয়েরা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো মেয়েদের বয়স একটু বাড়লেই চোখে মুখে বয়সের ছাপ পড়ে। একজন নারীর বয়স ৪০ পেরিয়ে গেলেই চেহারাতে একটা বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, তাই বয়স ধরে রাখার জন্য সে আরো নানান ধরনের কসমেটিক্স ব্যবহার করে, কিন্তু নিজেকে সুন্দর রাখবার ক্ষেত্রে একটা প্রপারলি রুটিন মেন্টেন করা ভীষণ প্রয়োজন না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই আপনাদের সুবিধার্থে আজকে এমন পাঁচটি কৌশল বলব যেগুলি মেনে চললে আপনারা অকালে বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।

১। বেসন, হলুদ গুঁড়ো, মুলতানি মাটি –

এই তিনটি উপাদানকে কোন একটি কোটোর মধ্যে একসাথে মিশিয়ে রাখুন। তারপর ফেসওয়াশ এর সাথে বা সাবানের সাথে এটি মিশিয়ে মুখে রোজ ব্যবহার করুন এতে আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং বার্ধক্য জনিত ছাপ আপনার মুখে পড়বে না।

২। খাওয়া-দাওয়ার দিকে নজর দিন-

বয়স ধরে রাখবার জন্য প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে জল খাওয়াটাও যেমন জরুরী তেমনি বিভিন্ন ফলের রস খেতে পারেন। গাজর, শসা, টমেটো কমলা লেবুর মতো ফলের রস যদি আপনি সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দুদিনও খেতে পারেন তাহলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং ত্বকের মধ্যে বয়স জনিত ছাপ পড়বে না

৩। জলে ভেজানো ছোলা-

রাত্রে বেলায় জলে ছোলা ভিজিয়ে রাখলে সকালবেলায় উঠে সেটা খেতে পারেন এমনটা করলে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে ঝকঝকে এবং তারুণ্যময়। আমি সব সময় যেটা প্রেফার করি সেটা হল ত্বকের ক্ষেত্রে কোন রকম কসমেটিক্স বা বাইরে জিনিস ব্যবহারের বদলে সবসময় প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন এখন প্রাকৃতিক উপাদান কোথায় পাবেন? যতই প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক বলে চেঁচায় আসলে তো সব জিনিসই ভেজাল। সেক্ষেত্রে একটা কাজ করতে পারেন হোমিওপ্যাথিক কোন ডাক্তার দেখিয়ে হোমিওপ্যাথিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। কারণ হোমিওপ্যাথিক কোন ফেসওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার গুলি যেমন আপনি দামের মধ্যে কিনতে পারবেন তেমনি এই সমস্ত জিনিসগুলি যেহেতু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেই কারণে এতে কেমিক্যাল এর ব্যবহার কম হয় আপনি কোন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করে নিজের জন্য পারফেক্ট হোমিওপ্যাথিক প্রোডাক্ট ইউজ করতে পারেন এর ফলে স্কিনে আপনার একরকম ওষুধ যেমন ব্যবহার করা হয় তেমনি ক্ষতিকারক বাজারজাত পণ্য ব্যবহার করার থেকে আপনি বেঁচে যান আর এ কথা তো আমরা অনেকেই জানি যে হোমিওপ্যাথিকে কোন কিছু খারাপ এফেক্ট হয়না।

৪। গোলাপজল-

প্রাকৃতিক ক্লিনজার হিসেবে গোলাপ জল খুব ভালো। আপনি মুখ পরিষ্কার করবার জন্য নিয়মিত গোলাপজল ব্যবহার করতে পারেন। একটি তুলো দিয়ে গোলাপ জল দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে আপনার মুখে তারুণ্য দিনকে দিন বেড়ে যাবে।

৫। চন্দনের গুঁড়ো-

মুখে কোন রকম দাগ সব জাতীয় সমস্যা হলে অন্য কোন রকম কসমেটিক্স ব্যবহারের পরিবর্তে চন্দনের গুঁড়ো ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনার যদি চন্দনে অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে ব্যবহার করবেন না।

৬। মধু ও লেবু-

মধু লেবুর রস মিশিয়ে একটি প্যাক তৈরি করে সেটা ১৫-২০ মিনিট মুখে রেখে ধুয়ে ফেলুন এতে মুখে একটা উজ্জ্বল গ্লো দেবে।

৭। দিনের শুরু-

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে উঠে এক গ্লাস হালকা উষ্ণ জলের সাথে এক চামচ মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে খান। এতে শরীর ঝকঝকে থাকবে।

৮) সার্বিক সৌন্দর্য-

এই ৮ নং পয়েন্ট টি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সব সৌন্দর্যের উপায় বলার শেষে একটা কথা বলি, বাহ্যিক সৌন্দর্য কিন্তু ক্ষণিকের যে কোন মুহূর্তে বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে, রোদে পুড়ে, গ্যাসের আগুনের তাপে বা অতিরিক্ত মানসিক চিন্তার কারণে মানুষের চেহারার বদল ঘটে, বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিকেই নজর রাখি। আমরা প্রতিটা মানুষই কম বেশি বাইরে সৌন্দর্যের দিকে দৌড়ায়। বাইরেটা সুন্দর করে তোলার পরিবর্তে আমরা যদি অন্তরের দিকে তাকিয়ে অন্তরটাকে সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করতাম তাহলে হয়তো খুব সুন্দর একটা জগৎ তৈরি হতো। কিন্তু খুব খারাপ লাগলেও এটা সত্যি যে এখনো কিছু মানুষ পহলে দর্শনধারী ফের গুন বিচারি এই তত্ত্বে বিশ্বাস করেন আর আমাদের মহিলাদের মধ্যেও অসংখ্য মহিলারা নিজেদেরকে শারীরিকভাবে সুন্দর করে তোলার চেষ্টা করেন তারাও যদি নিজেদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের বদলে নিজেদের চারিত্রিক দৃঢ়তা ব্যক্তিত্বের দিকে শান দিয়ে সেই ভাবে বলিষ্ঠ রূপে নিজেদের প্রেজেন্ট করে পুরুষোচিত সমাজের বুকে দাঁড়িয়ে বলতে পারতেন ‘আমি যেমনই হই আমি তেমনই সুন্দর, কারোর জন্য আমার গায়ের রং পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই, কারোর জন্য আমার সুন্দরী হয়ে ওঠার প্রয়োজন নেই’ তাহলে হয়তো জগতটা প্রকৃত অর্থেই সুন্দর হতো। তবু বিশ্বাস রাখি আজ অল্প সংখ্যক নারীর মধ্যে যে সচেতনতা এসেছে একদিন এই বিশ্বের সকল নারীর মধ্যে সেই আত্মসচেতনতা আসবে, সে নিজেকে সুন্দর হিসেবে চিনতে শিখবে। এই সৌন্দর্য বাইরের নয় এই সৌন্দর্য অন্তরের আর সেই দিন এই রকমের আর্টিকেল লেখা নিরর্থক হয়ে যাবে।

RELATED ARTICLES

Most Popular