Friday, February 3, 2023
Homeব্যক্তিত্বশৈশবে মায়ের শেখানো এই সাতটি কথায় শিশুদের উন্নত চরিত্রের/ব্যক্তিত্ববান গড়ে তোলে

শৈশবে মায়ের শেখানো এই সাতটি কথায় শিশুদের উন্নত চরিত্রের/ব্যক্তিত্ববান গড়ে তোলে

একজন সন্তানের প্রতি বাবা-মা হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষেরই দায়িত্ব থেকে যায়। প্রত্যেকটি বাবা মা চান তাদের সন্তান যেন সুশিক্ষিত ও সুন্দর মানসিকতা সম্পন্ন হন। একজন শিশু ছোট থেকে সেই বিষয়গুলিই শেখে, যেগুলি তাকে শেখানো হয়। আজকে আমি আপনাদের এমন কতগুলি বিষয় বলবো যে বিষয়গুলি বাচ্চার ছোটবেলা থেকেই আপনাকে শেখাতে হবে। কথায় বলে চারা অবস্থায় থাকতেই গাছের পরিচর্যা করতে হয়, ঠিক সেইরকম ভাবে একটি শিশুকেও শৈশব থেকেই যত্ন করা উচিত,তবেই সে উপযুক্ত ভাবে মানুষ হবে। চলুন জেনে নিন শৈশব থেকেই ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে কী কী শিক্ষা দিতেই হবে

১। সকলকে সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষাঃ ছোট থেকেই আপনার শিশুকে শেখাবেন যে, ছেলে মেয়ে নির্বিশেষে প্রতিটি লিঙ্গের মানুষকে সম্মান করতে হবে। তার থেকে বড় মানুষদেরকে যেমন সম্মান করতে হবে ঠিক একইভাবে তার থেকে বয়সে ছোট মানুষদের এবং তার সমবয়সী মানুষদের সাথেও সুন্দর করে মার্জিত ভাবে কথা বলতে হবে। এর ফলে পরবর্তীকালে বড় হয়েও সে সকলের সাথে সুন্দরভাবে ব্যবহার করবে।

২। ভুল স্বীকার ও তার থেকে শিক্ষাঃ আপনার শিশুকে শেখাবেন যে, মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই সে যদি কোন ভুল করে ফেলে তা অবশ্যই স্বীকার করা উচিত এবং সেই ভুলের থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীকালে সেই একই ভুল না করা উচিত। এইভাবে শেখানোর ফলে সে পরবর্তীকালে ব্যর্থতাকেও ঠিক ভাবে গ্রহণ করতে সক্ষম হবে এবং নিজে ব্যর্থ হলে ভেঙে না পড়ে সেখান থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।

৩। জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করাঃ পড়াশোনা করে ভালো রেজাল্টের প্রতি প্রত্যাশা রাখা ভালো তবে তার মানে এই নয় যে, কম মেধার ছাত্র-ছাত্রী মানেই তারা খারাপ বা ভালো রেজাল্ট না করতে পারলেই সে অসফল। গ্রেড পয়েন্টের চাইতে জ্ঞানের মূল্য অনেক বেশি। তাই সবসময় আপনার সন্তানকে জ্ঞান অর্জন করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করুন। ছোট থেকে এই ভাবে শিক্ষা পাওয়ার ফলে সে বড় হয়ে তার চাইতে কম মেধা সম্পন্ন ছাত্র-ছাত্রীদেরকেও সম্মান করতে শিখবে এবং নিজে যদি কোন কারনে কোন পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করে তাহলে সে নিজেকে অসফল মনে করবে না।

৪। বিশ্বাসযোগ্য আচরণঃ নিজের সন্তানের সাথে ছোট থেকেই আপনি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন এবং তাকে এটা বিশ্বাস করতে সাহায্য করুন যে, তার যে কোন বন্ধুর চাইতে তার বাবা মা হলো তার সবথেকে বড় বন্ধু ও নিরাপদ আশ্রয়। যেকোনো সমস্যার কথা যদি তারা নির্দ্বিধায় আপনার কাছে বলে, তবে তারা নিশ্চিত ভাবেই সমস্যার সমাধান পাবে।

৫। খারাপ কাজ না করার শিক্ষাঃ সব সময় শিশুকে গল্পের সাহায্যে বলে বলে এটা শেখাতে শুরু করুন যে, অকারণে ঈর্ষান্বিত হয়ে বা নিজের কোনো স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কারোর প্রতি অন্যায় কার্য করলে বা খারাপ আচরণ করলে তার পরিণামও খারাপ হয়। ছোট থেকে বিভিন্ন গল্পের সাহায্যে যদি আপনি শিশুকে এই শিক্ষা দিতে পারেন, তবে বড় হয়ে সে কোন অন্যায় কাজ কখনোই করবে না।

৬। জনপ্রিয়তার জন্য অপছন্দের কাজ করা উচিত নয়ঃ অনেক সময় দেখা যায় বন্ধুদের মধ্যে কোন খেলায় নিজেকে জনপ্রিয় প্রমাণ করতে অপছন্দের কোন কাজ কেউ করে ফেললো, অথবা এমন কোন কাজ করতে রাজি হয়ে গেলো যেটা করা তার পক্ষে এক প্রকার দুঃসাধ্য। তাই আপনার শিশু যাতে এরকম কোন কাজ না করে বসে তাই ছোট থাকতেই তাকে শেখান, গল্পের মাধ্যমে শিক্ষা দিন।

৭। পরিবেশকে সুন্দর রাখার শিক্ষাঃ ছোট থেকেই শিশুকে শিক্ষা দিন, সে যেখানে থাকবে সেই চারপাশটাকে যেন সে সুন্দর রাখে। পরিবেশের কদর করবার শিক্ষা তাকে দিন। ‌‌‌
আপনি যদি সত্যিই একজন সৎ ও সুদৃঢ় ব্যক্তিত্ববান সন্তানের পিতা অথবা মাতা হতে চান, তাহলে চারা গাছে জল দেওয়ার মতো করেই আপনার শিশুর যত্ন নিতে হবে। শৈশব থেকেই তার মধ্যে মূল্যবোধ, সকলের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সত্য বক্তব্য রাখতে পারার দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসী হওয়ার শিক্ষা দিতে হবে। কারণ শৈশবের শিক্ষায় পরবর্তীকালে একজন ব্যক্তির মধ্যে সুন্দরভাবে পরিণতি পায়।

RELATED ARTICLES

Most Popular